বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১১৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০৬
রাজকাহিনী

রৌদ্রে বারো বৎসরের বালক বাদল আর পঞ্চাশ বৎসরের বৃদ্ধ গোরা, একদল রাজপুতকে নিয়ে, প্রাণপণে চিতোরের সিংহদ্বার রক্ষা করতে লাগলেন। সন্ধ্যা হয়ে এল, তবু যুদ্ধ শেষ হল না। চিতোর থেকে দলের পর দল রাজপুত এসে সেই যুদ্ধে যোগ দিতে লাগল। বাদশা হাজারের পর হাজার পাঠান এনেও চিতোরের একখানা পাথর পর্যন্ত দখল করতে পাল্লেন না! শেষে, যে ভীমসিংহকে তিনি কাল রাত্রে লোহার শৃঙ্খলে বন্ধ রেখেছিলেন, সেই ভীমসিংহ যখন হাতীর পিঠে যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হলেন, তখন পাঠান-বাদশার আশা-ভরসা নির্ম্মূল হল। সন্ধ্যার অন্ধকারে অর্দ্ধেক ভারতবর্ষের সম্রাট আল্লাউদ্দীন চিতোরের সম্মুখ থেকে ঘোড়া ফিরিয়ে শিবিরে গেলেন। জয় জয় রবে চিতোর নগর পরিপূর্ণ হল।

 সেই দিন গভীর রাত্রে যুদ্ধ-শেষে রাণা ভীমসিংহ যখন পদ্মিনীর শয়নকক্ষে বিশ্রাম করতে এলেন, তখন রাণার দুই চক্ষে জল দেখে পদ্মিনী জিজ্ঞাসা কল্লেন, —“এ সুখের দিনে চক্ষে জল কেন?” রাণা নিশ্বাস ফেলে বল্লেন,—“পদ্মিনী, আজ আমার পরম-উপকারী চিরবিশ্বাসী গোরা, চিরদিনের মত যুদ্ধের খেলা সাঙ্গ