বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১১৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পদ্মিনী
১০৭

করে, দেবলোকে চলে গেছে।” দুজনে আর একটিও কথা হল না। রাণী পদ্মিনী শয়ন-ঘরের প্রদীপ অন্ধকার করে দিলেন;—দক্ষিণের হাওয়ায় সারারাত্রি চিতোরের মহাশ্মশানের দিক থেকে একটা যেন হায় হায় হায় হায়-শব্দ সেই ঘরের ভিতর ভেসে আসতে লাগল।

 আল্লাউদ্দীন যখন পদ্মিনীর আশায় চিতোর ঘিরে বসেছিলেন, সেই সময় কাবুল থেকে মোগলের দল একটু একটু করে ক্রমেই ভারতবর্ষের দিকে এগিয়ে আসছিল। রাজপুতের কাছে হার মেনে বাদশা নিজের শিবিরে এসে শুনলেন,— মোগল-বাদশা তৈমুর লং দিল্লী আক্রমণ করতে আসছেন। সেই সঙ্গে দিল্লী থেকে পিয়ারী বেগমের এক পত্র পেলেন, তার এক জায়গায় বেগম লিখেছেন,—“শাহেনশা আর কেন? পদ্মিনীর আশা পরিত্যাগ করুন। হে মধুকর, তুমি পদ্মের সন্ধানে মরুভূমির মাঝে ফিরতে লাগলে, আর বনের ভাল্লুক এসে তোমার সাধের মৌচাক লুটে গেল! সকলি আল্লার ইচ্ছা! আজ অর্দ্ধেক ভারতবর্ষের রাজা, কাল হয় তো পথের ভিখারী! হায় রে হায়, দিল্লীর পিয়ারী বেগমকে এতদিনে বুঝি মোগল-দস্যুর বাঁদী হতে হল!” বাদশা পিয়ারীর চিঠি পড়ে স্তম্ভিত