মলিনমুখে রাণা ভীমসিংহ চিতোরগড়ে ফিরে এলেন। মহারাণা লক্ষ্মণসিংহ রাজসভায় ভীমসিংহকে ডেকে বল্লেন,—“কাকাজি, এত দিনে বুঝি চিতোর-গড় পাঠানের হস্তগত হয়, আর উপায় নেই! প্রজাসকল হাহাকার করছে, সমস্ত দেশ দুর্ভিক্ষে উজাড় হয়ে যাচ্ছে, তার উপর এই বিপদ উপস্থিত। এখন কি নিয়ে, কাকে নিয়েই বা লড়াই করি?” ভীমসিংহ বল্লেন,—“চিতোর এখনও বীরশূন্য হয়নি, এখনও আমরা একবৎসর পাঠানের সঙ্গে যুদ্ধ চালাতে পারি, এমন ক্ষমতা রাখি।” লক্ষ্মণসিংহ ঘাড় নাড়লেন,—“কাকাজি, আর যুদ্ধ বৃথা! আমি বেশ বুঝতে পারছি, পাঠানের সঙ্গে সন্ধি না করলে আর রক্ষা নেই; তবে কেন এই দুর্ভিক্ষের দিনে সমস্ত দেশ জুড়ে যুদ্ধের আগুন জ্বালাই? সমস্ত প্রজা আমার মুখের দিকে চেয়ে আছে! আমার ক্ষতিতে রাজ্যে যদি শান্তি আসে, যদি আগুন নিভে যায়, তবে পাঠানের সঙ্গে সন্ধি করায় ক্ষতি কি? না হয়, কিছুকাল, পাঠানবাদশার একজন তালুকদার হয়েই কাটালেম!” ভীমসিংহের দুই চক্ষে জল পড়তে লাগল, তিনি মহারাণার দুটি হাত ধরে বল্লেন,—“হায়, লছমন্, মনে বেশ
পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১১৯
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পদ্মিনী
১০৯