বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১২০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১১০
রাজকাহিনী

বুঝছি আর উপায় নেই, তবু আমার একটি অনুরোধ আছে। দুই বৎসর বয়সে যখন তোর মা গেলেন, বাপ গেলেন, তখন আমিই তোকে ছেলের মত বুকে টেনে নিয়েছিলেম; সমস্ত বিপদ-আপদ, রাজ্যের সমস্ত ভাবনাচিন্তা তোরই হয়ে অকাতরে সহ্য করেছিলেম। আজ আমার একটি অনুরোধ রক্ষা কর। বৎস! সাত দিন সময় দে। আমি এই শেষবার চিতোর-উদ্ধারের চেষ্টা দেখি। এই সাত দিন যেন পাঠানের সঙ্গে সন্ধি না হয়, এই সাত দিনে যেন আমার হুকুম মহারাণার হুকুম জেনে সকলে মান্য করে।” লক্ষণসিংহ বল্লেন, —“তথাস্তু।”

 সেই দিন থেকে ভীমসিংহের হুকুম-মত এক একজন রাজপুত-সর্দ্দার পাঠানের সঙ্গে যুদ্ধে যেতে লাগলেন। প্রতিদিন খবর আসতে লাগল,—আজ অমুক রাজকুমার যুদ্ধে প্রাণ দিলেন, আজ অমুক সামন্ত বন্দী হলেন;—চিতোরের ঘরে ঘরে হাহাকার উঠল! সেই হাহাকার, সেই হাজার হাজার অনাথ শিশু আর বিধবার ক্রন্দন, পদ্মসরোবরের মাঝখানে, যেখানে রাজরাণী পদ্মিনী শ্বেত-পাথরের দেব-মন্দিরে পূজায় বসেছিলেন, সেইখানে পৌঁছিল। পদ্মিনী দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে পূজা