সেই সময় চৈত্রমাসের পরিষ্কার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বড় বড় ফোঁটায় বৃষ্টি নাবল। পদ্মিনী একটা মোটা চাদরে সর্ব্বাঙ্গ ঢেকে নিজের মহল থেকে চিতোরেশ্বরী উবরদেবীর মন্দিরে একা চলে গেলেন। রাত্রি দুই প্রহর, উবরদেবীর মন্দিরে সমস্ত আলো নিভে গেছে, কেবল একটি মাত্র প্রদীপের আলো! সেই আলোয় বসে দেবীর ভৈরবী, রাজরাণী পদ্মিনীকে বল্লেন,—“মহারাণী, আমি আবার বলি, তুমি যে কাজ করতে যাচ্ছ, তার শেষ হচ্ছে মৃত্যু! দেবীর রত্নঅলঙ্কার একবার অঙ্গে পরলে আর নিস্তার নেই! ছয় মাসের মধ্যে জীবন্ত-অবস্থায় জ্বলন্ত আগুনে দগ্ধ হতে হবে!” পদ্মিনী বল্লেন,—“হে মাতাজি, আশীর্ব্বাদ করুন, যে রূপসীর জন্য রাজস্থানে আজ এ আগুন জ্বলেছে, তার সেই পোড়া রূপ জ্বলন্ত আগুনেই ভস্ম হোক।” ভৈরবী বল্লেন,—“তবে তাই হোক বৎস, আমি এই আশীর্ব্বাদ করি, যে চিতোরের জন্য তুমি নিজের প্রাণ তুচ্ছ করলে, সেই চিতোরে তোমার নাম চিরদিন যেন অমর থাকে; যে মহাসতীর রত্নঅলঙ্কার আজ তুমি পরতে চল্লে, সেই মহাসতী মরণান্তে তোমায় যেন চরণে রাখেন।” রাণী পদ্মিনী
পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১২২
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১১২
রাজকাহিনী