বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১২৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১১৪
রাজকাহিনী

দাঁড়ালেন; হঠাৎ পায়ের তলায় মেঝের পাথরগুলো একবার যেন কেঁপে উঠলো; তার পর মহারাণা অনেকখানি ফুলের গন্ধ আর অনেক নুপূরের ঝিনি-ঝিনি শব্দ পেলেন।—কারা যেন অন্ধকারে ঘুরে বেড়াচ্ছে! মহারাণা বলে উঠলেন,—“কে তোরা? কি চাস?” চারিদিকে—দেওয়ালের ভিতর থেকে, ছাদের উপর থেকে, পায়ের নীচে থেকে শব্দ উঠল,—“ময় ভূখা হুঁ!” লক্ষ্মণসিংহ বল্লেন,— “আঃ, এত রাত্রে চিতোরের রাজপ্রাসাদে উপবাসে কে জাগে?” আবার শব্দ উঠল—“ময় ভূখা হু!” তার পর, গাঢ় ঘুমের মাঝখানে, স্বপ্ন যেমন ফুটে ওঠে, তেমনি সেই শয়নঘরের অন্ধকারে এক অপরূপ দেবীমূর্ত্তি ধীরে ধীরে ফুটে উঠল! মহারাণা বলে, উঠলেন,—“কে তুমি? দেবতা না দানব, আমায় ছলনা করছ?” লক্ষ্মণসিংহ দীপদান থেকে সোনার প্রদীপ উঠিয়ে ধরলেন। প্রদীপের আলো, দেবীর কিরীটকুণ্ডলে, রত্ন-অলঙ্কারে, অসংখ্য অসংখ্য মণিমাণিক্যে, হাজার হাজার আগুনের শিখার মত, দপ্‌দপ্ করে জ্বলতে লাগল! লক্ষ্মণসিংহ দেখলেন,—চিতোরেশ্বরী উবরদেবী! ভয়, ভক্তি, বিস্ময়ে মহারাণার সর্ব্বশরীর অবশ হয়ে এল;—