বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১২৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পদ্মিনী
১১৫

পরমানন্দে-দুর্ব্বল তাঁর হাত থেকে সোনার প্রদীপ খসে পড়ল। তার পর, সব অন্ধকার! সেই অন্ধকারে মহারাণা স্বপ্ন দেখছেন, কি জেগে আছেন, বুঝতে পাল্লেন না! তিনি যেন শুনতে লাগলেন, দেবী বলছেন, —“ময় ভূখা হুঁ!—বড় ক্ষুধা, বড় পিপাসা, আমি মহাবলি চাই;—রক্ত না হলে এ পিপাসার শান্তি নাই! মহারাণা! ওঠো, জাগো, দেশের জন্য বুকের রক্তপাত কর; আমার খর্পর রক্তের শতধারায় পরিপূর্ণ কর! রাজাপ্রজা, বালকবৃদ্ধ যদি চিতোরের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করে, তবেই কল্যাণ; না হলে, সূর্য্যবংশের রাজপরিবার আর কখনো চিতোরের সিংহাসন পাঠানের হাত থেকে ফিরে পাবে না!” পর্ব্বতের গুহায় প্রতিধ্বনি যেমন ঘুরতে থাকে, তেমনি সেই প্রকাণ্ড ঘরে দেবীর শেষ– কথা অনেকক্ষণ ধরে গম্ গম্ কর্‌তে লাগল। রাত্রি শেষ হয়ে গেল। ঊষাকালে সোনার আলো আর শীতল বাতাসের মাঝখানে চিতোরেশ্বরী কোথায় অন্তর্দ্ধান করলেন। অনেক দূরে পার্ব্বর্তী-মন্দিরে নহবতের সুরে ভৈরবী রাগিণীতে মহাদেবীর স্তুতি-গান বাজতে লাগল।

 প্রত্যূষে, রাজদরবারে মহারাণা লক্ষ্মণসিংহ যখন