রাত্রের ঘটনা আর দেবীর আদেশ সকলের সম্মুখে প্রকাশ কল্লেন, তখন সকলে বিস্মিত হ’ল বটে, কিন্তু অনেকেই সে কথা বিশ্বাস করলে না। যাদের হৃদয়ে বিশ্বাস অটল, ভক্তি অচলা ছিল, যারা চিতোরের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত, তারা উৎসাহে উন্মত্ত হয়ে উঠল; আর যাদের প্রাণ নিরুৎসাহ, মন দুর্ব্বল, যারা পাঠানের সঙ্গে সন্ধি হলে সুখে স্বচ্ছন্দে দিন কাটাবে ভেবেছিল, তারা ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ল। কিন্তু সেই রাত্রে মহারাণার আদেশে মেবারের ছোটবড় সামন্তসর্দ্দারেরা যখন দেবীর নিজের মুখের আদেশ শোনবার জন্য অন্তঃপুরের সেই ঘরে একত্র হলেন, যখন দ্বিপ্রহরে স্তব্ধ রাজপুরে হাজার হাজার রাজপুত বীরের চোখের সম্মুখে আবার সেই দেবী-মূর্ত্তি “ময় ভূখা হু!” বলে প্রকাশ হল, তখন আর কারো মনে কোনো সন্দেহ রইল না;—সকলের মন থেকে সমস্ত অবিশ্বাস, সকল দুর্ব্বলতা নিমেষের মধ্যে দূর হল;—আগুনের তেজে অন্ধকার যেমন দূরে যায়! সকলেই বীরত্বের নেশায় উন্মত্ত হয়ে উঠল; কেবল রাণা ভীমসিংহ যেন সেই দেবী-মূর্ত্তির ভিতরে পদ্মিনীকে দেখে মনে মনে তোলাপাড়া করতে লাগলেন,—এ কি দেবী না পদ্মিনী? পদ্মিনী না দেবী?
পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১২৬
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১১৬
রাজকাহিনী