তার পর, মহাবলির উদ্যোগ হল। মহারাণা লক্ষ্মণসিংহ তাঁর বারোটি রাজপুৎত্রের মধ্যে সর্ব্বপ্রথম, সব চেয়ে বড় রাজকুমার, যুবরাজ অরিসিংহের মাথায় চিতোরের রাজমুকুট দিয়ে বল্লেন,—“হে ভাগ্যবান, দেবীর আদেশ শিরোধার্য্য কর! পাঠানযুদ্ধে অগ্রসর হও! আজ তুমি সমস্ত মেবারের মহারাণা। এই সমস্ত সামন্ত-সর্দ্দার তোমারি প্রজা বলে জানবে। আজ থেকে তোমারি হাতে যুদ্ধের ভার। জয় হলে তোমার পুরস্কার—ইহলোকে চিতোরের রাজসিংহাসন আর যুদ্ধে প্রাণ গেলে তার ফল—পরলোকে মহাদেবীর অভয় চরণ!” বৃদ্ধ রাণা লক্ষ্মণসিংহ অরিসিংহকে সিংহাসন ছেড়ে দিয়ে নীচে দাঁড়ালেন;— নতুন রাণার মাথায় চিতোরের কিরীট শোভা পেতে লাগল। চারিদিকে রব উঠল,—“জয় মহাদেবীর জয়! জয় অরিসিংহের জয়!” লক্ষ্মণসিংহ বলতে লাগলেন,—“সর্দ্দারগণ, আমার আর একটি শেষ কর্ত্তব্য আছে। সে কর্ত্তব্য দেবীর কাছে নয়, চিতোরের কাছে নয়;—আমার পিতা পিতামহ স্বর্গীয় মহারাণাদের কাছে। এই মহা সমরে মেবারের রাজবংশ একেবারে নির্ম্মূল না হয়, পরলোকে পিতৃপুরুষেরা যাতে জল-গণ্ডূষ পান, রাজস্থানে বাপ্পার
পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১২৭
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পদ্মিনী
১১৭