বংশ যুগে যুগে যাতে অমর থাকে, সেই জন্য আমার ইচ্ছা, অজয়সিংহ নিজের স্ত্রীপুত্ত্র নিয়ে কৈলবায়ার নির্জ্জন দুর্গে চলে যান।”
লক্ষ্মণসিংহের বারো জন রাজপুৎত্রের মধ্যে কেবল অজয়সিংহেরই দুটি শিশু সন্তান ছিল। অজয়সিংহ মহারাণার সম্মুখে জোড়-হাত করে বল্লেন, “পিতা, আমার এগারো ভাই চিতোরের জন্যে যুদ্ধে প্রাণ দেবে, আর আমি কিনা স্ত্রীলোকের মত শিশু সন্তান মানুষ করবার জন্য বসে থাকব? আমি কি এতই দুর্ব্বল, এমনি অক্ষম?” লক্ষ্মণসিংহ বল্লেন,—“বৎস, হতাশ হয়ো না, যে মহৎ কাজের ভার তোমায় দিলেম, চিতোরের যে-কোনো রাজপুত সে ভার পেলে নিজেকে ধন্য বোধ করত! হয় তো আমাদের রক্তপাতে চিতোর উদ্ধার হবে না, হয় তো তোমাকেও চিতোরের জন্য প্রাণপণ করতে হবে। আমরা হয় তো চিতোরকে পরাধীন রেখে চলে যাব, আর হয় তো তুমি সূর্য্যবংশের উপযুক্ত কোনো বীরপুরুষের হাতে রাজ্যভার দিয়ে পরম সুখে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে পারবে! মনে রেখো, চিতোরের জন্য প্রাণ দেবার যে সুখ চিতোর-পুনরুদ্ধারের সুখ তার শতগুণ।”