লক্ষ্মণসিংহ নীরব হলেন। জয়-জয়-শব্দে রাজসভা ভঙ্গ হল।
রাজসভা থেকে বিদায় নেবার সময় অরিসিংহ অজয়সিংহকে বলে গেলেন,— “চিতোর ছেড়ে যাবার আগে আমার সঙ্গে দেখা করে যেও।” যাত্রার সমস্ত আয়োজন শেষ করে অজয়সিংহ যখন বড় ভায়ের ঘরে গেলেন, তখন অরিসিংহ একখানি চিঠি শেষ করে ছোট ভাইয়ের দিকে ফিরে বল্লেন, “ভাই, আজ আমাদের শেষ দেখা, কাল তুমি একদিকে, আমি একদিকে! এই শেষ দিনে তোমায় একটি কাজের ভার দিচ্ছি।” অরিসিংহ চামড়ায় মোড়া একটি ছোট থলি আর সেই চিঠিখানি অজয়সিংহের হাতে দিয়ে বল্লেন,—“অজয়, এ দুটি যত্ন করে রেখো, যদি আমি যুদ্ধ থেকে ফিরে আসি,তবে আবার চেয়ে নেব, নয় তো তুমি খুলে দেখো, আমার শেষ ইচ্ছা কি।” তার পর, অজয়সিংহকে আলিঙ্গন করে অরিসিংহ বল্লেন,—“চল ভাই, মায়ের কাছে বিদায় হই!”
সেই দিন শেষ-রাত্রে যখন রাজ-অন্তঃপুর থেকে দুই রাজপুত্র দুই দিকে বিদায় হয়ে গেলেন, তখন বারো ছেলের মা-জননী চিতোরের মহারাণী দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে