বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১৩০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২০
রাজকাহিনী

মাটির উপর লুটিয়ে পড়লেন, তাঁর সমস্ত শরীর পাষাণের মত স্থির হয়ে গেল, কেবল সজল দুটি কাতর চোখ সেইদিকে একদৃষ্টে চেয়ে রইল—যেদিক দিয়ে দুটি রাজকুমার চলে গেলেন। মহারাণা বলতে লাগলেন,—“প্রিয়ে, স্থির হও, ধৈর্য্য ধর, বুক বাঁধো, মহাকালের কঠোর বিধান নতশিরে শান্ত মনে বহন কর।” তার পর রণরণ-শব্দে রাজপুতের রণডঙ্কা দিক্‌দিগন্ত কাঁপিয়ে বাজতে লাগল;—যুবরাজ অরিসিংহ যুদ্ধযাত্রা কল্লেন।

 সেই দিন থেকে একমাস কেটে গেল। পাঠানের বিরুদ্ধে রাজপুতের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হল! একের পর এক, এগারো জন রাজকুমার যুদ্ধে প্রাণ দিলেন। আর আশা নেই, আর উপায় নেই! কিন্তু তবু রাজপুতের বীর-হৃদয় এখনও অটল রইল। চিতোরের শেষ দুই বীর, লক্ষ্মণসিংহ আর ভীমসিংহ, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে লাগলেন। রাণার হুকুমে মেবারের লক্ষ লক্ষ সৈন্যসামন্তের অবশেষ—ভীষণমূর্ত্তি ভগবান একলিঙ্গের দশহাজার দেওয়ানী ফৌজ একত্র হতে লাগল। তাদের একহাতে শূল, একহাতে কুঠার, দুই কানে শাঁখের কুণ্ডল, মাথায় কালো ঝুঁটি, গলায় রুদ্রাক্ষের