বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১৩২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২২
রাজকাহিনী

ফৌজের ডাক পড়েছিল, আর আজ কয় পুরুষ পরে মহারাণা লক্ষ্মণসিংহের হুকুমে দেওয়ানী ফৌজ আর একবার চিতোরের কেল্লায় উপস্থিত হল।

 কালরাত্রি, তিথি অমাবস্যা যখন জগৎ-সংসার গ্রাস করেছিল, মাথার উপর থেকে চন্দ্রসূর্য্য যখন লুপ্ত হয়েছিল, সেই সময় চিতোরের মহাশশ্মশানের মধ্যস্থলে চিতোরেশ্বরীর মন্দিরে বারো-হাজার রাজপুত সুন্দরীর জহর-ব্রত আরম্ভ হল। মন্দিরের ঠিক সম্মুখে অন্ধকার একটা সুড়ঙ্গের উপরে দাঁড়িয়ে রাজস্থানের প্রথম সুন্দরী রাণী পদ্মিনী অগ্নিদেবের স্তব আরম্ভ কল্লেন,“হে অগ্নি, হে পবিত্র উজ্জ্বল স্বর্ণকান্তি, এসো! পৃথিবীর অন্ধকার তোমার আলোয় দূরে যাক। হে অগ্নি, হে মহাতেজ, এসো! তুমি দুর্ব্বলের বল, সবলের সহায়। হে দেবতা, হে ভয়ঙ্কর, আমাদের ভয় দূর কর, সন্তাপ নাশ কর, আশ্রয় দাও! লজ্জা-নিবারণ, দুঃখবিনাশন, বহ্নিশিখা, তুমি জীবনের শেষ-গতি, বন্ধনের মহামুক্তি!” পদ্মিনী নীরব হলেন, বারো-হাজার রাজপুতের মেয়ে সেই অগ্নিকুণ্ডের চারিদিকে ঘুরে ঘুরে গাইতে লাগল,—“লাজহরণ, তাপবারণ!”—হঠাৎ এক সময় মহা কল্লোলে চারিদিক পরিপূর্ণ করে হাজার