বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১৩৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পদ্মিনী
১২৫

বিদ্যুতের মত চমকে উঠল; তার পরেই শব্দ উঠল,—“আল্লা হো আকবর শাহনশা কি ফতে!”—পাঠানের পায়ের তলায় মহারাণার রাজছত্র চূর্ণ হয়ে গেল! সূর্য্যদেব, সমস্ত পৃথিবী অন্ধকার করে অস্ত গেলেন; রক্তমাংসের লোভে রণস্থলের উপর দলে দলে নিশাচর পাখী কালো ডানা মেলে উড়ে বেড়াতে লাগল।

 চিতোর হস্তগত হল। পাঠানের তলোয়ার চিতোরের পথঘাট রক্তের স্রোতে রাঙা করে তুল্লে; ধনধান্যে, মণিমুক্তায়, লক্ষ লক্ষ তাতার-ফৌজের বড় বড় সিন্দুক পরিপূর্ণ হল। কিন্তু যে রত্নের লোভে আল্লাউদ্দীন আজ অমরাবতীর সমান চিতোর নগর শ্মশান করে দিলেন, যার জন্য দিল্লীর সিংহাসন ছেড়ে বিদেশে এলেন, সেই পদ্মিনীর সন্ধান পেলেন কি? বাদশা চিতোরে এসে প্রথমেই শুনলেন,—পদ্মিনী আর নাই— চিতার আগুনে সুন্দর ফুল ছাই হয়েছে! সেই দিন রাত্রে বাদশার হুকুমে চিতোরের ঘর, দ্বার, মন্দির, মাঠ, ছাইভস্ম চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল,—কেবল প্রকাণ্ড সরোবরের মাঝখানে রাণী পদ্মিনীর রাজমন্দির তেমনি নতুন, তেমনি অটুট রইল। আল্লাউদ্দীন সেই রাজমন্দিরে পদ্মসরোবরের ধারে শ্বেতপাথরের বারাণ্ডায়