মিলে একদিন পরামর্শ করলে,—গায়েব আমাদের চেয়ে লেখায়, পড়ায়, গায়ের জোরে, সকল বিষয়ে বড়; এস আমরা সকলে মিলে গায়েবকে রাজা করি, আর আমরা তার প্রজা হই; তাহলে গায়েব আর আমাদের উপর অত্যাচার করতে পারবে না। এই বলে সকলে মিলে গায়েবকে রাজা বলে কাঁধে করে নৃত্য আরম্ভ করলে। গায়েব হাসিখুসিতে সেই সকল ছোট ছোট ছেলের কাঁধে বসে আছেন, এমন সময় একটি খুব ছোট ছেলে বলে উঠল,—“আমি রাজার পূজারী। মন্ত্র পড়ে গায়েবকে রাজটীকা দেব।” তখন সেই ছেলের পাল গায়েবকে একটা মাটির ঢিপির উপর বসিয়ে দিলে। গায়ের সত্যি রাজার মত সেই মাটির সিংহাসনে বসে আছেন, এমন সময়, সেই ছোট ছেলেটি তাঁর কপালে তিলক টেনে দিয়ে বল্লে,—“গায়েব, তোমার নাম জানি, বল তোমার মায়ের নাম কি, বাপের নাম কি? গায়েব বল্লেন,—“আমার নাম গায়েব, আমার বোনের নাম গায়েবী, মায়ের নাম সুভাগা। আমার বাপের নাম—কি?” গায়েব জানেন না যে তিনি সূর্য্যদেবের বরপুত্র। নাম বলতে পাল্লেন না, লজ্জার অধোবদন হলেন, চারিদিকে ছেলের পাল
পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১৫
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
শিলাদিত্য
১১