বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২
রাজকাহিনী

হো হো হাততালি দিতে লাগল, লজ্জায় গায়েবের মুখ লাল হয়ে উঠল। তখন এক পদাঘাতে সেই মাটির সিংহাসন চূর্ণ করে, চড়ে চাপড়ে ছোট ছেলেদের ফোলা গাল বেশি করে ফুলিয়ে, রাগে কাঁপ্‌তে কাঁপ্‌তে গায়েব একেবারে দেবমন্দিরে উপস্থিত হলেন। সুভাগা গায়েবীর হাতে পিতলের একটি ছোট প্রদীপ দিয়ে কেমন করে সূর্য্যদেবের আরতি করতে হয় শিখিয়ে দিচ্ছিলেন; এমন সময় ঝড়ের মত গায়েব এসে পিতলের সেই প্রদীপটা কেড়ে নিয়ে টান মেরে ফেলে দিলেন। নিরেট পিতলের প্রদীপ পাথরের দেওয়ালে ঝন্‌ঝন্ শব্দে চুরমার হয়ে গেল, সেই সঙ্গে সূর্যদেবের মূর্ত্তি-লেখা একখানা কালো পাথর সেই দেওয়াল থেকে খসে পড়ল। সুভাগা বল্লেন,—“আরে উন্মাদ, কি করলি? সূর্য্যদেবের মঙ্গল আরতি ছারখার করে দেবতার অপমান করলি?” গায়েব বল্লেন,—“দেবতাও বুঝিনে, সূর্য্যও বুঝিনে, বল আমি কার ছেলে? না হলে আজ তোমার সূর্য্যমূর্ত্তি কুণ্ডের জলে ডুবিয়ে দেব।” যদিও প্রকাণ্ড সেই সূর্য্যমূর্ত্তি ভীম এলেও তুলতে পারতেন না, তবু গায়েবের বীরদর্প দেখে সুভাগার মনে হল,— কি জানি কি করে! তিনি