বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
শিলাদিত্য
১৩

তাড়াতাড়ি গায়েবের দুটি হাত ধরে বল্লেন, “বাছা শান্ত হ, স্থির হ, আর সূর্য্যদেবের অপমান করিসনে; পিতার নামে কি কাজ? আমি তোর মা আছি, গায়েবী তোর বোন, আর তোর কিসের অভাব?” গায়েব তখন কাঁদ্‌তে কাঁদ্‌তে বল্লেন,—“তবে কি মা, আমি নীচ, জঘন্য, অপবিত্র, পথের ধূলা, ভিখারীর অধম?” কথাগুলো তীরের মত সুভাগার বুকে বাজল, তিনি দুই হাতে মুখ ঢেকে বসে পড়লেন; মনে মনে ভাবলেন,—হায় ভগবান, কি করলে? এ দুরন্ত ছেলেকে কেমন করে বোঝাই, কি বলে প্রবোধ দিই? গায়েব গায়েবী নীচ নয়, অপবিত্র নয়, সূর্য্যের সন্তান, সকলের চেয়ে পবিত্র, একথায় কে বিশ্বাস করবে? সুভাগার সূর্য্যমন্ত্রের কথা একবার মনে হল, কিন্তু যখন ভাবলেন যে দুইবার মন্ত্র উচ্চারণ করলে নিশ্চয় মৃত্যু—এই কচি বয়সে গায়েবগায়েবীকে একা ফেলে পৃথিবী ছেড়ে চিরকালের মত চলে যেতে হবে, —তখন তাঁর মায়ের প্রাণ কেঁদে উঠল। সুভাগা বল্লেন,—“বাছা, কথা রাখ্, ক্ষান্ত দে, চল্ আমরা অন্য দেশে চলে যাই, সূর্য্যদেবকেই তোদের পিতা বলে জেনে রাখ্।” গায়েব ঘাড় নাড়লেন; বিশ্বাস হয় না। তখন সুভাগা বল্লেন,