বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৪
রাজকাহিনী

— “তবে মন্দিরের সমস্ত দরজা বন্ধ কর, এখনি তোদের পিতাকে দেখতে পাবি, কিন্তু হায়, আমাকে আর ফিরে পাবি না।” সুভাগার দুই চক্ষে জল পড়তে লাগল। গায়েবী বল্লে,—“ভাই, মাকে কেন কষ্ট দাও?” গায়েব উত্তর না দিয়ে মন্দিরের সমস্ত দরজা বন্ধ করে দিলেন। সুভাগা দুজনের হাত ধরে সূর্য্যমূর্ত্তির সম্মুখে গিয়ে ধ্যানে বসলেন। এই মন্দিরে একাকিনী সুভাগা একদিন মৃত্যু ইচ্ছা করে যে-মন্ত্র নির্ভয়ে উচ্চারণ করেছিলেন, কালসর্পের মত সেই সূর্য্যমন্ত্র আজ উচ্চারণ করতে তাঁর মায়ের প্রাণে কতই ভয়, কতই ব্যথা! সূর্য্যদেব দর্শন দিলেন,—সমস্ত মন্দির যেন রক্তের স্রোতে ভাসিয়ে প্রচণ্ড মূর্ত্তিতে দর্শন দিলেন। সুভাগা বল্লেন,—“প্রভু, গায়েবগায়েবী কার সন্তান?” সূর্য্যদেব একটিও কথা কইলেন না। দেখতে দেখতে সূর্য্যের প্রচণ্ড তেজে ভিখারিণী সুভাগার সুন্দর শরীর জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। গায়েবী কেঁদে উঠল,—“মা, মা!” গায়েব জিজ্ঞাসা করলেন,—“মা কোথা?” সূর্য্যদেব কোনই উত্তর করলেন না, কেবল পাষাণের উপর সেই রাশীকৃত ছাই দেখিয়ে দিলেন। গায়েব বুঝলেন,—মা আর নেই। রাগে দুঃখে তাঁর চোখে আগুন ছুটল। গায়েব মন্দিরের