মন্দিরে বন্ধ করে রেখে যাও, আমি বাগানের ফল, কুণ্ডের জল খেয়ে জীবন কাটাব। তারপর তুমি যখন রাজা হবে, আমার এই মন্দির থেকে রাজবাড়িতে নিয়ে যেও।”
গায়েব মহা আনন্দে গায়েবীকে সেই মন্দিরে বন্ধ রেখে সাত-ঘোড়ার রথে পৃথিবী জয় করতে চলে গেলেন। আর গায়েবী সেই রাশীকৃত ছাই সূর্য্যকুণ্ডের জলে ঢেলে দিয়ে “মা রে ভাই রে!” বলে পাষাণের উপর আছাড় খেয়ে পড়ল।
সেই দিন গভীর রাত্রে যখন আকাশে তারা ছিল না, পৃথিবীতে আলো ছিল না, সেই সময় হঠাৎ সেই সূর্য্যমন্দির ঝন্ঝন্,—শব্দে একবার কেঁপে উঠল। তারপর আশি মণ কালোপাথরের প্রকাণ্ড সূর্য্যমূর্ত্তিকে নিয়ে, আর ননীর পুতুলের মত সুন্দরী গায়েবীকে নিয়ে, আধখানা মন্দির ক্রমে মাটির নীচে চলে যেতে লাগল। গায়েবী প্রাণভয়ে পালাবার চেষ্টা কলে, বৃথা চেষ্টা! গায়েবী দেওয়াল ধরে ওঠবার চেষ্টা কল্লে, পাথরের দেওয়ালে পা রাখা যায় না,—কাঁচের সমান। তখন গায়েবী ‘ভাই রে'! বলে অজ্ঞান হয়ে পড়ল। তারপর সব শেষ, সব অন্ধকার!