নিয়ে সূর্য্যমন্দিরে উপস্থিত হলেন; দেখলেন, ভীমের বর্ম্ম দুখানার মত মন্দিরের দুখানা কবাট একেবারে বন্ধ;—কত-কালের লতা-পাতা, সেই মন্দিরের দুয়ার যেন লোহার শিকলে বেঁধে রেখেছে। শিলাদিত্য নিজের হাতে সেই লতা-পাতা সরিয়ে মন্দিরের দুয়ার খুলে ফেল্লেন; দিনের আলো পেয়ে এক ঝাঁক বাদুড় ঝটাপট্ করে খোলা-দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল। শিলাদিত্য মন্দিরে প্রবেশ করেন; চেয়ে দেখলেন, যেখানে সূর্য্যদেবের মূর্ত্তি ছিল সেখানে প্রকাণ্ড একখানা অন্ধকার, কালো পর্দ্দার মত সমস্ত ঢেকে রেখেছে।শিলাদিত্য ডাকলেন—“গায়েবী! গায়েবী! কোথায় গায়েবী?”অন্ধকার থেকে উত্তর এল— “হায় গায়েবী, কোথা গায়েবী!” শিলাদিত্য মশাল আনতে হুকুম দিলেন; সেই মশালের আলোয় শিলাদিত্য দেখলেন,—উত্তর দিকটা শূন্য করে সূর্য্যমূর্ত্তির সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরের আধখানা যেন পাতালে চলে গেছে; কেবল কালো পাথরের সাতটা ঘোড়ার মুণ্ডু বাসুকির ফণার মত মাটির উপর জেগে আছে। যে ঘরে শিলাদিত্য গায়েবীর সঙ্গে খেলা করেছেন, যে ঘরে সারাদিন খেলার পর দুটি ভাই-বোন্ গুর্জ্জরদেশের গল্প শুনতে শুনতে মায়ের
পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/২২
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৮
রাজকাহিনী