বিন্ধ্যাচলের গায়ে রাজ-অন্তঃপুরে যেদিকে পুষ্পবতীর ঘর ছিল, ঠিক তার সম্মুখে, পাহাড় থেকে পঞ্চাশ গজ নীচে, বল্লভীপুরে যাবার পাকা রাস্তা। পুষ্পবতী সেইবার চন্দ্রাবতীতে এসে, যত্ন করে নিজের ঘরখানির ঠিক সম্মুখে, দেওয়ালের মত সমান সেই পাহাড়ের গায়ে, পঁচিশ গজ উপরে, যেন শূন্যের মাঝখানে, ছোট একটি শ্বেতপাথরের বারাণ্ডা বসিয়েছিলেন। সেইখানেই বসে, সেই রাস্তার দিকে চেয়ে, তিনি প্রতিদিন একখানি রূপার চাদরে সোনার সূতোয় সবুজ রেশমে, সবুজ ঘোড়ায়—চড়া সূর্য্যের মূর্ত্তি সোনার ছুঁচ দিয়ে সেলাই করতেন, আর মনে মনে ভাবতেন,—মহারাজা যুদ্ধ থেকে ফিরে এলে, পাখীর পালকের মত হাল্কা এই পাগড়িটি মহারাজের মাথায় নিজের হাতে বেঁধে দেব। তারপর দুজনে মিলে পঁচিশ গজ ভাঙনের গায়ে—পাতলা একখানি মেঘের মত সাদা শ্বেতপাথরের সেই বারাণ্ডায় বসে মহারাজের মুখে যুদ্ধের গল্প শুনব।
মাঝে মাঝে পুষ্পবতী দেখতেন, সেই বল্লভীপুরের রাস্তার বহুদূরে একটি বল্লমের মাথা ঝক্মক্ করে উঠত; তারপর কালো ঘোড়ার পিঠে বল্লভীপুরের