রাজদূত দূর থেকে হাতের বল্লম মাটির দিকে নামিয়ে অন্তঃপুরের বারাণ্ডায় রাজরাণী পুষ্পবতীকে প্রণাম করে তীরবেগে চন্দ্রাবতীর সিংহদ্বারের দিকে চলে যেত। যেদিন দাসীর হাতে মহারাজা শিলাদিত্যের চিঠি পুষ্পবতীর কাছে আসত, পুষ্পবতী সেদিন সমস্ত কাজ ফেলে শূন্যের উপরে সেই বারাণ্ডায় মহারাজার চিঠি হাতে করে বসে থাকতেন। সেই আনন্দের দিনে যখন কোনো বুড়ো জাঠ গান গেয়ে মাঠের দিকে যেতে যেতে, কোনো রাখাল—বালক পাহাড়ের নীচে ছাগল চরাতে চরাতে, চন্দ্রাবতীর রাজকুমারীকে ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম করত, তখন পুষ্পবতী কারো হাতে এক-ছড়া পান্নার চিক, কারো হাতে বা এক-গাছা সোনার মল ফেলে দিতেন।
রাজকুমারীর প্রসাদ মাথায় ধরে হাজার হাজার আশীর্ব্বাদ করতে করতে সেই সকল রাজভক্ত প্রজা সকালবেলায় কাজে যেত, সন্ধ্যাবেলায় সেই রাজদূত সেই কালো ঘোড়ার পিঠে বল্লম-হাতে মহারাণী পুষ্পবতীর চিঠি নিয়ে বল্লভীপুরের দিকে ফিরে যেত।
পুষ্পবতী নিস্তব্ধ সন্ধ্যায় পাহাড়ে পাহাড়ে কালো ঘোড়ার খুরের আওয়াজ অনেকক্ষণ ধরে শুনতে পেতেন,