—কখনো বা কোনো বুড়ো জাঠের মোঠো গান আর সেই সঙ্গে রাখাল বালকের মিষ্টি সুর সন্ধ্যার হাওয়ায় ভেসে পূজায় আসত! তারপর বিন্ধ্যাচলের শিখরে বিন্ধ্যবাসিনী ভবানীর মন্দিরে সন্ধ্যাপূজার ঘোর ঘণ্টা বেজে উঠত, তখন পুষ্পবতী মহারাজের সেই চিঠি খোঁপার ভিতর লুকিয়ে রেখে, পাটের শাড়ী প’রে দেবীর পূজায় বসতেন; আর মনে মনে বল্তেন,—“হে মা চামুণ্ডে, হে মা ভবানী, মহারাজকে ভালোয় ভালোয় যুদ্ধ থেকে ফিরিয়ে আন। ভগবতী, আমার যে ছেলে হবে সে যেন মহারাজেরই মত তেজস্বী হয়, আর তাঁরই মত যেন নিজের রাণীকে খুব ভালোবাসে।”
—হায়, মানুষের সকল ইচ্ছা পূর্ণ হয় না! পুষ্পবতী রাজারই মত তেজস্বী ছেলে পেয়েছিলেন বটে, কিন্তু তাঁর মনে যে বড় সাধ ছিল—সেই শ্বেতপাথরের বারাণ্ডায় বসে মহারাজার মুখে যুদ্ধের গল্প শুনবেন, —তাঁর যে বড় সাধ ছিল,—নিজের হাতে মহারাজের মাথায় হাওয়ার মত পাতলা সেই সুন্দর চাদরখানি জড়িয়ে দেবেন;—সে সাধ কোথায় পূর্ণ হল? তাঁর সে মনের ইচ্ছা মনেই রইল, এ জন্মে আর মহারাজের সঙ্গে দেখা হল না।