বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/৩৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গোহ
২৭

মত ধূ ধূ করতে লাগল্। তিনি লক্ষ লক্ষ টাকার হীরের গহনা গা থেকে খুলে বালির উপর ছড়িয়ে দিলেন, সিঁথির সিঁদূর মুছে ফেল্লেন। তারপর উদাস প্রাণে বিধবার বেশ ধরে শিলাদিত্যের আদরের মহিষী পুষ্পবতী, সন্ন্যাসিনীর মত সেই মালিয়া-পাহাড়ের প্রকাণ্ড গহ্বরে আশ্রয় নিলেন।

 মরুপারে দশমাস দশদিন পূর্ণ হলে সন্ন্যাসিনী রাণীর কোলে, অন্ধকার গুহায়, রাজপুত্রের জন্ম হল; নাম রইল গোহ। রাণী পুষ্পবতী সেই দিনই বীরনগর থেকে তাঁর ছেলেবেলার প্রিয়সখী ব্রাহ্মণী কমলাবতীকে ডেকে পাঠিয়ে, সেই আশী জন রাজপুত-বীরের সম্মুখে তাঁর বড় সাধের রাজপুত্র গোহকে সঁপে দিয়ে বল্লেন,—“প্রিয় সখি, তোমার হাতে আমার গোহকে সঁপে দিলুম, তুমি মায়ের মত একে মানুষ কোরো; তোমায় আর কি বলব ভাই, দেখো রাজপুত্রকে কেউ না অযত্ন করে; আর ভাই, যখন চিতার আগুনে আমার এই দেহ ছাই হয়ে যাবে, তখন আমার সেই এক-মুঠো ছাই কার্ত্তিক-পূর্ণিমায় কাশীর ঘাটে গঙ্গাজলে ঢেলে দিও; —যেন আমাকে জন্মান্তরে আর না বিধবা হতে হয়।” ঝরঝর করে কমলাবতীর চোখে জল পড়তে লাগল।