বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৮
রাজকাহিনী

 সেইদিন সন্ধ্যাবেলা সেই আশী জন রাজভক্ত রাজপুত চন্দনের কাঠে চিতা জ্বালিয়ে চারিদিক ঘিরে দাঁড়াল; শিলাদিত্যের মহিষী, রাজপুতরাণী, সন্ন্যাসিনী, সতী পুষ্পবতী হাসিমুখে জ্বলন্ত চিতায় ঝাঁপ দিলেন। দেখ্তে দেখ্তে ফুলের মত সুন্দর পুষ্পবতীর কোমল শরীর পুড়ে ছাই হল। চারিদিকে রব উঠল,—“জয় মহারাণীর জয়, জয় সতীর জয়।” কমলাবতী ঘুমন্ত গোহকে এক কোলে, আর সেই ছাই-মুঠো এক হাতে নিয়ে, চক্ষের জল মুছতে মুছতে বীরনগরে ফিরে গেলেন; সঙ্গে সঙ্গে সেই আশী জন রাজপুত-বীর রাজপুত্রকে ঘিরে সেই দিন থেকে বীরনগরে বাসা নিলেন।

 চন্দ্রাবতীর রাজা রাণী অনেকবার গোহকে চন্দ্রাবতীতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বল্লভীপুরের তেজস্বী সেই রাজপুত-বীরের দল গোহকে কিছুতেই ছেড়ে দেন নাই। তাঁরা বলতেন,—“আমাদের মহারাণী আমাদের হাতে রাজপুত্রকে সঁপে গেলেন, আমরাই তাঁকে পালন করব। বল্লভীপুরের রাজকুমার বল্লভীপুরের রাজপুতদের রাজা হয়ে এই মরুভূমিতেই থাকুন। এই তাঁর রাজপ্রাসাদ।”

 গোহ সেই বীরনগরে কমলাবতীর ঘরে মানুষ হতে