বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/৩৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩০
রাজকাহিনী

বল্লম-হাতে বাঘের ছালপরা হাজার হাজার ভীল-বালক, ঘোড়ায়—চড়া সেই রাজপুত রাজকুমারকে ঘিরে “আমাদের রাজা এসেছে রে,—রাজা এসেছে রে!” বলে, মাদোল বাজিয়ে নাচতে নাচতে ঘরে ঘরে ঘুরে বেড়াতে লাগল। ক্রমে সেই ছেলের পাল গোহকে নিয়ে রাজবাড়ীতে উপস্থিত হল। তখন খোড়ো-চালের রাজবাড়ী থেকে ভীলদের রাজা বুড়ো মাণ্ডলিক বেরিয়ে এসে বল্লেন,—“আ রে কোথায় রে তোদের নতুন রাজা?” ছেলের পাল গোহকে দেখিয়ে দিলে। তখন সেই বুড়ো ভীল গোহকে অনেকক্ষণ দেখে বল্লেন,— “ভালো রে ভালো, নতুন রাজার কপালে তিলক লিখে দে।” তখন একজন ভীল-বালক নিজের আঙুল কেটে, বুড়ো রাজা মাণ্ডলিকের সাম্‌নে, রক্তের ফোঁটা দিয়ে গোহের কপালে রাজ-তিলক টেনে দিলে;—ভীলদের নিয়মে সে রক্তের তিলক মুছে দেয়, এমন সাধ্য কারো নেই!

 গোহ সত্য সত্যই রাজা হয়ে ভীলদের রাজসভায় বুড়ো রাজার কাঠের রাজসিংহাসনের ঠিক নীচে একখানি ছোট পিঁড়ির উপর বসলেন। এই পিঁড়িখানি অনেকদিন শূন্য পড়ে ছিল; কারণ মাণ্ডলিক চিরদিন