নিঃসন্তান। তাঁর দীনদুঃখী সামান্য প্রজা, তাদের ঘরআলো-করা কালো বাঘের মত কালো ছেলে; কিন্তু হায়, রাজার ঘর চিরদিন অন্ধকার, চিরকাল শূন্য ছিল! সেদিন যখন সমস্ত ভীলদের মধ্যস্থলে রক্তের তিলক প’রে গোহ যুবরাজ হয়ে পিঁড়েয় বসলেন, তখন বুড়ো মাণ্ডলিকের দুই চক্ষু সেই সুন্দর রাজকুমারের দিকে চেয়ে আনন্দে ভেসে গেল!
ভীলরাজের এক ছোট ভাই ছিলেন। দশ বৎসর আগে একদিন কি-জানি-কি-নিয়ে দুই ভায়ে খুব ঝগড়া হয়েছিল, সেই থেকে বিচ্ছেদ; দেখাশোনা পর্য্যন্ত বন্ধ ছিল। গোহ যুবরাজ হবার দিন মাণ্ডলিকের ছোট ভাই হিমালয় পর্ব্বত থেকে ভীল-রাজত্বে হঠাৎ ফিরে এলেন; এসে দেখলেন, রাজপুতের ছেলে যুবরাজের আসন জুড়ে বসেছে। রাগে তাঁর সর্ব্বাঙ্গ জ্বলে গেল, তিনি রাজসভার মাঝে মাণ্ডলিককে ডেকে বল্লেন,—“এ রে ভাইয়া, বুড়া হয়ে তুই কি পাগল হয়েছিস্! বাপের রাজ্যি ছেলেতে পাবে, তোর ছেলে হলনা, তোর পরে আমি রাজা; রাজপুতের ছেলেকে পিঁড়ায় বসালি কি বলে?” মাণ্ডলিক বল্লেন,— “ভাইজি ঠাণ্ডা হ।” ভাই-রাজ বল্লেন,—“ঠাণ্ডা হব যেদিন