মাণ্ডলিক সেই ছুরি হাতে রাত-দুপুরে ভাই-রাজার দরজায় ঘা দিলেন;—কারো সাড়াশব্দ নেই! ভীলরাজ ধীরে ধীরে ভাইয়ের ঘরে প্রবেশ কর্লেন; দেখলেন, তাঁর ছোট ভাই সামান্য ভীলের মত মাটির উপরে এক হাতে মুখ ঢেকে পড়ে আছেন। ভীলরাজের প্রাণে যেন হঠাৎ ঘা লাগল; তিনি কালো পাথরের পুতুলটির মত ছোট—ভাইয়ের সুন্দর শরীর মাটির উপর পড়ে থাক্তে দেখে, আর চোখের জল রাখতে পারলেন না। মনে ভাবলেন,—আমি কি নিষ্ঠুর! হায়, ছোট ভাইয়ের রাজ্য পরকে দিয়েছি, আবার কিনা শত্রু ভেবে ঘুমন্ত ভাইকে মারতে এসেছি!
মাণ্ডলিক কুড়ি বৎসরের সেই ভীল-রাজকুমারের মাথার শিয়রে বসে ডাকলেন,—“ভাইয়া!” একবার ডাকলেন, দুবার ডাকলেন, তারপর মুখের কাছ থেকে তার নিটোল হাতখানি সরিয়ে নিয়ে ডাকলেন,— “ভাইয়া—!” কোনই উত্তর পেলেন না। তখন বুড়ো রাজা ছোট ভাইয়ের মুখের কাছে মুখ রেখে তার কোঁকড়া কোঁকড়া কালো চুলে হাত বুলিয়ে বল্লেন,—“ভাইয়া, রাগ করেছিস্? ভাইয়া, আমার সঙ্গে কথা