বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গোহ
৩৫

যদি না থাকত তবে তো আজ দশ বৎসর পরে তিনি ছোট ভাইটিকে বুকে ফিরে পেতেন; তবে কি আজ ভীল-রাজকুমার রাজ্য-হারা হয়ে রাগে দুঃখে বুকফেটে মারা পড়ত? মাণ্ডলিক অনেকক্ষণ ধরে ছোট ভাইটির বুকে হাত-বুলিয়ে দিলেন; কিন্তু হায়, খাঁচা ফেলে পাখী যেমন উড়ে যায়, তেমনি সেই ভীলবালকের সুন্দর শরীর শূন্য করে প্রাণপাখী অনেকক্ষণ উড়ে গেছে।

 মাণ্ডলিক আর সে ঘরে বসে থাকতে পারলেন না, ছুরি-হাতে সদর দরজা খুলে বাহিরে দাঁড়ালেন। তাঁর প্রাণ যেন কেঁদে কেঁদে বলতে লাগল,—“গোহ রে, তুই কি করলি? আমার রাজ্য নিলি, রাজসিংহাসন নিলি, ভায়ে ভারে বিচ্ছেদ ঘটালি, গোহ, তুই কি শেষে আমার শত্রু হলি?” হঠাৎ পাহাড়ে রাস্তা দিয়ে দুটি ভীলের মেয়ে গলা-ধরাধরি করে চলে গেল। একজন বলে গেল,—— “আহা, কি সুন্দর রাজা দেখেচিস্- ভাই!” আর একজন বল্লে,—“নতুন রাজা যখন আমার হাত ধরে নাচতে লেগেছিল তখন তার মুখখানা যেন চাঁদপারা দেখলুম।” মাণ্ডলিক নিশ্বাস ফেলে ভাবলেন, —হায়, এরি মধ্যে আমার প্রজারা