বুড়ো রাজাটাকে ছেঁড়া কাপড়ের মত ছেড়ে ফেলেছে! ভীল-রাজের মনে হল, যেন পৃথিবীতে তাঁর আর কেউ নেই। তিনি শূন্য-মনে পূর্ণিমার প্রকাণ্ড চাঁদখানার দিকে চেয়ে রইলেন; সেই সময় কালো ঘোড়ায় চড়ে দুইজন রাজপুত ভীল-রাজের সাম্নে দিয়ে চলে গেল। একজন বল্লে,—“ভাই, রাজকুমার আজ শুভ-দিনে ভীলরাজত্বের রাজসিংহাসনে না বসে সকলের সাম্নে যুবরাজের আসনে বসে রইলেন কেন?” অন্যজন বল্লে,—“গোহ প্রতিজ্ঞা করেছেন, যতদিন বুড়ো রাজা বেঁচে থাকবেন, ততদিন তিনি যুবরাজের মত তাঁর পায়ের কাছে বসবেন।” মাণ্ডলিকের প্রাণ যেন আনন্দে পরিপূর্ণ হল; তিনি হাসিমুখে মনে মনে বল্লেন,—“ধন্য গোহ, ধন্য তার ভালোবাসা।” হঠাৎ সেই অন্ধকারে কার নিশ্বাসের শব্দ শোনা গেল। মাণ্ডলিক ফিরে দেখলেন, ছোট ভাইয়ের প্রকাণ্ড শিকারী কুকুরটা নিঃশব্দে অন্ধকারে দীর্ঘনিশ্বাস ফেলছে! বুক যেন তাঁর ফেটে গেল; তিনি “ভাই রে!” বলে পাহাড়ের উপর আছাড় খেয়ে পড়লেন। পাথরের গায়ে লেগে গোহের সেই ছুরি, শিকারী কুকুরের দাঁতের মত, ভীল-রাজের বুকে সজোরে বিঁধে গেল;— পাহাড়ে পাহাড়ে শেয়ালের
পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/৪৪
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৬
রাজকাহিনী