বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/৪৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বাপ্পাদিত্য
৩৯

পরিপূর্ণ ধানের গোলা, আশ্রয়হীন দীনদুঃখী ভীলপ্রজাদের জন্যে সারা-বৎসর খুলে রেখেছিলেন! ভাগ্যদোষে যুদ্ধে জয় না হলে যেদিন কোনো কাপুরুষ যুবরাজ বিশ্বাসঘাতক বলে ভীল-সেনাপতিদের মাথা একটির পর একটি হাতীর পায়ের তলায় চূর্ণ করে ফেলতেন, সেদিন সমস্ত ভীল-বাহিনী চক্ষের জল মুছে ভাবত,—হায় রে হায়, মহারাজ গোহ ছিলেন, যিনি যুদ্ধের সময় ভায়ের মত তাদের যত্ন করতেন, মায়ের মত তাদের রক্ষা করতেন, বীরের মত সকলের আগে চলতেন!

 এত অত্যাচার, এত অপমান, তবু সেই বিশ্বাসী ভীল-প্রজাদের সরল প্রাণ আট-পুরুষপর্য্যন্ত বিশ্বাসে, রাজভক্তিতে পরিপূর্ণ ছিল! কিন্তু যখন বাপ্পাদিত্যের পিতা নাগাদিত্য রাজসিংহাসনে বসে ঘোর অত্যাচার আরম্ভ করলেন; যখন গরীব প্রজাদের গ্রাম জ্বালিয়ে, ক্ষেত উজাড় করে তাঁর মন সন্তুষ্ট হল না; তিনি যখন হাজার হাজার ভীলের মেয়ে দাসীর মত রাজপুতের ঘরে ঘরে বিলিয়ে দিতে লাগলেন; যখন প্রতিদিন নূতন নূতন অত্যাচার না হলে রাত্রে তাঁর ঘুম হত না; শেষে সমস্ত ভীলের প্রাণের চেয়ে প্রিয়