তাদের একমাত্র আমোদ—বনে বনে পশু শিকার—যেদিন নাগাদিত্য নূতন আইন করে একেবারে বন্ধ করলেন; সেদিন তাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে পড়ল।
নাগাদিত্য ভীল-প্রজাদের উপর এই নূতন আইন জারি করে সমস্ত রাত্রি সুখের স্বপ্নে কাটিয়ে সকালে উঠে দেখলেন, দিনটা বেশ মেঘলা-মেঘলা, ঠাণ্ডা হাওয়া ছেড়েছে, কোনো দিকে ধূলো নেই, শিকারের বেশ সুবিধা। নাগাদিত্য তৎক্ষণাৎ হাতী সাজিয়ে দলবল নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। সেদিন রাজার সঙ্গে কেবল রাজপুত!—দলের পর দল, বড় বড় ঘোড়ায় চড়ে রাজপুত! সামান্য ভীলের একটি ছোট ছেলে পর্য্যন্ত যাবার হুকুম নেই! শিকার দেখলে খাঁচার ভিতর চিতাবাঘ যেমন ছট্ফট্ করে, আজ এমন শিকারের দিনে ঘরের ভিতর বসে থেকে ভীলদের প্রাণ তেমনিই ছট্ফট্ করছে। এই কথা ভেবে নিষ্ঠুর নাগাদিত্যের মন আনন্দে নৃত্য করতে লাগল।
মহারাজ নাগাদিত্য দলবল নিয়ে ভেরী বাজিয়ে হৈহৈ-শব্দে পর্ববতের শিখরে চড়লেন;— বজ্রের মত ভয়ঙ্কর সেই ভেরীর আওয়াজ শুনে অন্যদিন মহিষের পাল জল ছেড়ে উঠে পালাত, বনের পাখী বাসা