বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/৫৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বাপ্পাদিত্য
৪৩

বেড়াচ্ছিলেন, আর এক একবার যে পাহাড়ে মহারাজ শিকারে গিয়েছেন, সেই দিকে চেয়ে দেখছিলেন। এক সময়ে হঠাৎ পাহাড়ের দিকে একটি গোলমাল উঠল; তারপর রাণী দেখলেন, সেই পাহাড়ে রাস্তায়, বনের অন্ধকার থেকে, মহারাজার কালো ঘোড়াটি তীরের মত ছুটে বেরিয়ে, ঝড়ের মত কেল্লার দিকে ছুটে আসতে লাগল;—পিছনে তাঁর শত শত ভীল,—কারো হাতে বল্লম, কারো হাতে বা তীরধনুক! মহারাণী দেখলেন, কালো ঘোড়ার মুখ থেকে সাদা ফেনা চারিদিকে মুক্তোর মত ঝরে পড়ছে, তার বুকের মাঝ থেকে রক্তের ধারা রাস্তার ধূলোয় ছড়িয়ে যাচ্ছে; তারপর দেখলেন, আগুনের মত একটি তীর তার কালো-চুলের ভিতর দিয়ে ধনুকের মত তার সুন্দর বাঁকা ঘাড় সজোরে বিঁধে ঘোড়াটাকে মাটির সঙ্গে গেঁথে ফেল্লে; রাজার ঘোড়া কেল্লার দিকে মুখ ফিরিয়ে ধূলোর উপর ধড়ফড় করতে লাগল! ঠিক সেই সময় মহারাণীর মাথার উপর দিয়ে একটা বল্লম শনশন্শব্দে কেল্লার ছাদের উপর এসে পড়ল। রাজমহিষী ঘুমন্ত বাপ্পাকে ওড়নার আড়ালে ঢেকে তাড়াতাড়ি উপর থেকে নেমে এলেন। চারিদিকে অস্ত্রের ঝন‍্ঝনি