মহারাণী অবাক হয়ে এক-হাতে বাপ্পাকে বুকে ধরে আর-হাতে সোনার চাবির গোছা নিয়ে খোলা দরজায় দাঁড়িয়ে রইলেন। হঠাৎ সেই অন্ধকারে কার পায়ের শব্দ শোনা গেল;— চামড়ার জুতো-পরা রাজপুতবীরের মচ্মচ্ পায়ের শব্দ নয়; রূপার বাঁকি-পরা রাজদাসীর ঝিনিঝিনি পায়ের শব্দ নয়; কাঠের খড়ম-পরা পঁচাশি বৎসরের বুড়ো রাজপুরোহিতের খটাখট্ পায়ের শব্দ নয়; —এ যেন চোরের মত, সাপের মত খুস্খাস্, খিট্খাট্ পায়ের শব্দ! মহারাণী ভয় পেলেন। দেখতে দেখতে অসুরের মত একজন ভীলসর্দ্দার তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হল। মহারাণী জিজ্ঞাসা করলেন,—“কে তুই? কি চাস্?” ভীল-সর্দ্দার বাঘের মত গর্জ্জন করে বল্লে,—জানিসনে আমি কে? আমি সেই দুঃখী ভীল, যার মেয়েকে তোর মহারাজা দাসীর মত চিতোরের রাজাকে দিয়ে দিয়েছে। আজ কি সুখের দিন!—এই হাতে নাগাদিত্যের বুকে বল্লম বসিয়েছি, আজ এই হাতে তার ছেলে-সুদ্ধ মহারাণীকে দাসীর মত বেঁধে নিয়ে যাব।”
মহারাণীর পা থেকে মাথা পর্যন্ত কেঁপে উঠল। “ভগবান রক্ষা কর!” বলে তিনি সেই নিরেট সোনার