বড় বড় চাবির গোছা সজোরে ভীল-সর্দ্দারের কপালে ছুঁড়ে মারলেন। দুরন্ত ভীল “মা রে!” বলে চীৎকার করে ঘুরে পড়ল; মহারাণী কচি বাপ্পাকে বুকে ধরে রাজপুরী থেকে বেরিয়ে পড়লেন; —তাঁর প্রাণের আধখানা মহারাজ নাগাদিত্যের জন্য হাহাকার করতে লাগল, আর-আধখানা এই মহাবিপদে প্রাণের বাপ্পাকে রক্ষা করবার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠল।
রাণী পথ চল্তে লাগলেন; —পাথরে পা কেটে গেল, শীতে হাত জমে গেল, অন্ধকারে বারবার পথ ভুল হতে লাগল,—তবু রাণী পথ চল্লেন। কত দূর! কত দূর! কত দূর!—পাহাড়ের পথ কত দূর, কোথায় চলে গেছে, তার যেন শেষ নেই! রাণী কত পথ চল্লেন, তবু সে পথের শেষ নেই! ক্রমে ভোর হয়ে গেল, রাস্তার আশে-পাশে বীরনগরের দু-একটি ব্রাহ্মণের বাড়ি দেখা দিতে লাগল। পাহাড়ী হাওয়া বরফের মত ঠাণ্ডা। পাখীরাও তখন জাগেনি, এমন সময় নাগাদিত্যের মহিষী রাজপুত্র বাপ্পাকে কোলে নিয়ে সেই বীরনগরের ব্রাহ্মণী কমলাবতীর বাড়ির দরজায় ঘা দিলেন। আট-পুরুষ আগে, একদিন শিলাদিত্যের মহিষী পুষ্পবতী প্রাণের কুমার গোহকে এই বীরনগরের কমলাবতীর হাতে সঁপে