নগেন্দ্রনগরে চলে গেলেন। একদিকে সমুদ্রের তিনটে ঢেউয়ের মত ত্রিকূট পাহাড়, আর-একদিকে মেঘের মত অন্ধকার পরাশর অরণ্য, মাঝখানে নগেন্দ্রনগর, কাছাকাছি শোলাঙ্কি বংশের একজন রাজপুত রাজার রাজবাড়ি। বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ সেই নগেন্দ্রনগরে ব্রাহ্মণ-পাড়ার গা-ঘেঁসে ঘর বাঁধলেন। সেই ভীলের মেয়ে তাঁর ঘরের সমস্ত কাজ কর্তে লাগল, আর রাজপুত্র বাপ্পা সেই দুটি ভাই,—ভীল বালিয় আর দেবকে নিয়ে মাঠে মাঠে বনে বনে গরু-চরিয়ে রাখাল-বালকদের সঙ্গে রাখালের মত খেলে বেড়াতে লাগলেন। রাজপুরোহিত কারো কাছে প্রকাশ করলেন না যে, বাপ্পা রাজার ছেলে; কেবল একটি তামার কবচে আগাগোড়া সমস্ত পরিচয় নিজের হাতে লিখে বাপ্পার গলায় বেঁধে দিলেন;—তাঁর মনে বড় ভয় ছিল, পাছে কোনো ভীল বাপ্পার সন্ধান পায়।
ক্রমে বাপ্পা যখন বড় হয়ে উঠলেন; যখন মাঠে মাঠে খোলা হাওয়ায় ছুটোছুটি করে, পাহাড়ে পাহাড়ে ওঠা-নামাতে রাজপুত্র বাপ্পার সুন্দর শরীর দিন দিন লোহার মত শক্ত হয়ে উঠল; যখন তিনি ক্ষেপা মোষ এক হাতে ঠেকিয়ে রাখতে পারতেন; সমস্ত রাখাল বালক