ঘুমপাড়ানি গানের মত তার বুনো সুরটা মেঘলা দিনে বাদলার হাওয়ায় মিশে স্বপ্নের মত বাপ্পার চারিদিকে ভেসে বেড়াতে লাগল। আজ যেন তাঁর মনে পড়তে লাগল, —ঐ পশ্চিম দিকে যেখানে মেঘের কোলে সূর্য্যের আলো ঝিকিমিকি জ্বলছে, সেখানে কালো কালো মেঘ পাথরের মত জমাট বেঁধে রয়েছে, সেইখানে, সেই অন্ধকার আকাশের নীচে, তাঁদের যেন বাড়ি ছিল; সেই বাড়ির ছাদে চাঁদের আলোয় তিনি মায়ের হাত ধরে বেড়িয়ে বেড়াতেন; সে বাড়ি কি সুন্দর! সে চাঁদের কি চমৎকার আলো! মায়ের কেমন হাসিমুখ! সেখানে সবুজ ঘাসে হরিণ ছানা চরে বেড়াত; গাছের উপর টিয়ে-পাখী উড়ে বসত; পাহাড়ের গায়ে ফুলের গোছা ফুটে থাকত; —তাদের কি সুন্দর রং, কি সুন্দর খেলা! বাপ্পা সজল নয়নে মেঘের দিকে চেয়ে চেয়ে বাঁশের বাঁশীতে ভীলের গান বাজাতে লাগলেন;—বাঁশীর করুণ সুর কেঁদে কেঁদে, কেঁপে কেঁপে বন থেকে বনে ঘুরে ঘুরে বেড়াতে লাগল।
সেই বনের একধারে আজ ঝুলন-পূর্ণিমায়, আনন্দের দিনে, শোলাঙ্কি-বংশের রাজায় মেয়ে সখীদের নিয়ে খেলে বেড়াচ্ছিলেন। রাজকুমারী বল্লেন,—“শুনেছিস