বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/৬২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫২
রাজকাহিনী

ভাই, বনের ভিতর রাখাল-রাজা বাঁশী বাজাচ্ছে!” সখীরা বল্লে,—“আয় ভাই, সকলে মিলে চাঁপা-গাছে দোলা খাটিয়ে ঝুলনো খেলা খেলি আয়!” কিন্তু দোলা খাটাবার দড়ি নাই যে! সেই বৃন্দাবনের মত গহন বন, সেই বাদলা দিনের গুরু গর্জ্জন, সেই দূরে বনে রাখালরাজের মধুর বাঁশী, সেই সখীদের মাঝে শ্রীরাধার সমান রূপবতী রাজনন্দিনী, সবই আজ যুগযুগান্তর আগেকার বৃন্দাবনে কৃষ্ণরাধার প্রথম ঝুলনের মত! এমন দিন কি ঝুলনা-বাঁধার একগাছি দড়ির অভাবে বৃথা যাবে? রাজনন্দিনী গালে হাত দিয়ে ভাবতে লাগলেন। আবার সেই বাঁশী, পাখীর গানের মত, বনের এপার থেকে ওপার আনন্দের স্রোতে ভাসিয়ে দিয়ে বেজে উঠল রাজকুমারী তখন হীরে-জড়ানো হাতের বালা সখীর হাতে দিয়ে বল্লেন,—“যা ভাই, এই বালার বদলে ঐ রাখালের কাছ থেকে একগাছা দড়ি নিয়ে আয়।”

 রাজকুমারীর সখী সেই বালা হাতে বাপ্পার কাছে এসে বল্লে,—“এই বালার বদলে রাজকুমারীকে একগাছা দড়ি দিতে পার?” হাসতে হাসতে বাপ্পা বল্লেন,—“পারি, যদি রাজকুমারী আমার বিয়ে করেন।”

 সেইদিন সেই নির্জ্জন বনে, রাজকুমারীর হাতে