বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/৭২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৬২
রাজকাহিনী

বালক বাপ্পাদিত্য উঠে দাঁড়িয়ে বল্লেন,—“শুনুন মহারাজ! আজ রাজস্থানের প্রধান প্রধান সর্দ্দারেরা রাজসভায় দাঁড়িয়ে বলেছেন, —এ ঘোর বিপদের সময় বাপ্পাই এবার সেনাপতি হয়ে যুদ্ধ চালান; তবে তাই হোক!” রাজা মান হতাশের মত চারিদিকে চেয়ে দেখলেন, তারপর ধীরে ধীরে বল্লেন,—“তবে তাই হোক।” তারপর একদিক দিয়ে মূচ্ছিতপ্রায় মান রাজা চাকরের কাঁধে ভর দিয়ে অন্তঃপুরে চলে গেলেন, আর-একদিক দিয়ে বাপ্পাদিত্য সৈন্য সাজাতে বাহির হলেন।

 বিদ্রোহী সর্দ্দারদের মাথা হেঁট হল। তাঁরা মনে ভেবেছিলেন যে, পোনেরো বৎসরের বালক বাপ্পা যুদ্ধে যেতে কখনই সাহস পাবে না,—সভার মাঝে অপমান হবে। কিন্তু যখন সেই বীর বালক নির্ভয়ে হাসিমুখে এই ভয়ঙ্কর যুদ্ধের ভার রাজার কাছে চেয়ে নিলে, তখন তাঁদের বিস্ময়ের সীমা রইল না। তাঁরা আরও আশ্চর্য্য হলেন, যখন সেই বাপ্পা—যাকে তাঁরা একদিন পথের ভিখারী বলে ঘৃণা করেছেন —পোনেরো বৎসরের সেই বালক বাপ্পা—যুদ্ধ জয় করে কোটি কোটি রাজপুত প্রজার আশীর্ব্বদ, জয়জয়কারের মধ্যে একদিন শুভদিনে শুভক্ষণে সমস্ত রাজস্থানের রাজমুকুটের সমান রাজপুতের