নতুন খেয়াল। কিন্তু মান-রাজার সভাপণ্ডিতেরা ভাবলেন, ইনি কি তবে গিহেলাট রাজকুমার গোহের বংশীয়? —সূর্যবংশেই তো ভীলের হাতে রাজটীকা নেবার নিয়ম ছিল জানি! মহারাজ বাপ্পা, নাগাদিত্যের মহিষী চিতোর-রাজকুমারীর ছেলে নয় তো? রাজা মান, বাপ্পার মায়ের ভাই, মামা নয়তো?—ছি, ছি! বাপ্পা কি অধর্ম্ম কল্লেন;——চোরের মত মামার সিংহাসন আপনি নিলেন? —এমন নিষ্ঠুর রাজার রাজত্বে থাকাও যে মহাপাপ! পণ্ডিতেরা আর রাজসভার মুখো হলেন না,—একে একে চিতোর ছেড়ে অন্য দেশে চলে গেলেন! হায়, তাঁরা যদি জানতেন বাপ্পা কত নির্দোষ;—বাপ্পা স্বপ্নেও ভাবেন নি রাজা মান তাঁর মামা! তিনি তাঁর পালকপিতা, সেই বৃদ্ধ রাজপুরোহিতের কাছে ভীল-বিদ্রোহ, রাজা গোহ, গায়েব-গায়েবীর গল্প শুনতেন বটে, কিন্তু তিনি জানতেন না যে, যার নিষ্ঠুর অত্যাচারে সরল ভীলরা একদিন ক্ষেপে উঠেছিল, সেই মহারাজ নাগাদিত্য তাঁর পিতা; তিনি জানতেন না যে, তাঁরই পূর্ব্বপুরুষ রাজকুমার গোহ,—যাঁকে রাণী পুষ্পবতী ব্রাহ্মণী কমলাবতীর হাতে সঁপে দিয়ে চিতার আগুনে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। বাপ্পা ভাবতেন, তিনি কোনো সামান্য রাজ্যের রাজপুত্র!
পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/৭৫
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বাপ্পাদিত্য
৬৫
৫