লেখা আছে।” রাণী কবচের আর-এক পিঠ উল্টে পড়তে লাগলেন,—জন্মস্থান মালিয়া-পাহাড়, পিতা নাগাদিত্য, মাতা চিতোর-কুমারী, নাম বাপ্পা।
মহারাণীর বড় বড় চোখ মহাবিস্ময়ে আরও বড় হয়ে উঠল,—তিনি তামার সেই কবচ হাতে বাপ্পার পায়ের তলায়, ফুলের বিছানার মত সুন্দর গালিচায় অবাক হয়ে বসে রইলেন; আর গজদন্তের পালঙ্কের উপর বাপ্পা ডান হাতের আঙুলে এক ফোঁটা রক্তের মত বড় একখানা লালের আঙুটির দিকে চেয়ে ভাবতে লাগলেন,—হায় হায়! কি পাপ করেছি! এই হাতে পিতৃহন্তা ভীলদের শাসন না করে, মামার প্রাণহন্তা হয়ে আমি সিংহাসনে বসেছি! মহারাণি! আমি মহাপাপী, আমি চিতোরের সিংহাসনে বসবার উপযুক্ত নই। এখন পিতৃহত্যার প্রতিশোধ আর আত্মীয়-বধের প্রায়শ্চিত্ত আমার জীবনের ব্রত হল।
একলিঙ্গের দেওয়ান বাপ্পা সেই দিনই সকলের কাছে বিদায় হয়ে, দশ হাজার দেওয়ানী ফৌজ নিয়ে চিতোর থেকে বার হলেন। তাঁর সমস্ত রাগ মালিয়া-পাহাড়ে ভীল-রাজত্বের উপর গিয়ে পড়ল। বাপ্পা মালিয়া-পাহাড় জয় করে ভীল-রাজত্ব ছারখার করে