বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/৮৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পদ্মিনী
৭৭

একে একে নিজের নিজের রাজত্বের মুখে পালিয়ে চল্লেন, তখন একমাত্র সমরসিং স্ত্রীপুত্ত্রপরিবার, রাজমুকুট, রাজসিংহাসন তুচ্ছ করে প্রাণের বন্ধু পৃথ্বীরাজের জন্য মুসলমানের সঙ্গে ঘোর যুদ্ধে প্রাণ দিলেন। আগে সেই ধর্ম্মাত্মা মহাবীর সমরসিংহ, তাঁর ষোল বছরের ছেলে কল্যাণ আর সেই তেরো হাজার রাজপুতের বুকের রক্তে কাগার নদীর বালুচর রাঙা হয়ে গেল, তবে পৃথ্বীরাজ বন্দী হলেন, তবে দিল্লীর হিন্দুসিংহাসন মুসলমান বাদশা শাহাবুদ্দিনের হস্তগত হল। এখন সে শাহাবুদ্দিন কোথায়, কোথায় বা সে দিল্লীর রাজতক্ত! কিন্তু যে ধর্ম্মাত্মা, বন্ধুর জন্যে নিজের প্রাণকে তুচ্ছ কল্লেন, সেই মহাবীর সমরসিংহের নাম, রাজপুত-কবিদের সুন্দর গানের মধ্যে, চিরকাল অমর হয়ে আছে;—এখনও রাজপুতনার সেই গান গেয়ে কত লোক রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করে!

 সমরসিংহের পর থেকে প্রায় একশ বৎসর কেটে গেছে। চিতোরের রাজসিংহাসনে তখন রাণা লক্ষ্মণসিংহ আর দিল্লীতে পাঠান বাদশা আল্লাউদ্দীন। সেই সময় একদিন রাণা লক্ষ্মণসিংহের কাকা ভীমসিং, সিংহলদ্বীপের রাজকুমারী পদ্মিনীকে বিয়ে করে সমুদ্রপার