বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/৮৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পদ্মিনী
৭৯

লাগল,—“হিন্দুস্থানে এক ফুল ফুটেছিল—তার দোসর নেই, তার জুড়ি নেই। সে কি ফুল? সে কি ফুল? আহা সে যে পদ্ম ফল, সে যে পদ্ম ফুল!— চারিদিকে নীল জল, মাঝে সেই পদ্ম ফুল! দেবতারা সে ফুলের দিকে চেয়েছিল, মানুষে সে ফুলের দিকে চেয়েছিল, চারিদিকে অপার সিন্ধু তরঙ্গভঙ্গে গর্জ্জন করছিল! কার সাধ্য সে সমুদ্র পার হয়, কার সাধ্য সে রাজার বাগিচায় সে ফুল তোলে; সে রাজার ভয়ে দেবতারাও কম্পমান!” আল্লাউদ্দীন বলে উঠলেন,—“আমি হিন্দুস্থানের বাদশা, আমি কোনো রাজারও তোয়াক্কা রাখি না, কোনো দেবতাকেও ভয় করি না। পিয়ারী! আমি কালই সেই পদ্ম ফুল তুলতে যাব!” বাঁদী আবার গাইতে লাগল, —“কে সে ভাগ্যবান সিন্ধু হল পার? কে সে গুণবান তুলিল সে ফুল?—মেবারের রাজপুতবীরের সন্তান! রাণা ভীমসিং! নির্ভয় সুন্দর!”

 আলাউদ্দীন কিংখাবের মছলন্দে সোজা হয়ে বসলেন, আনন্দের সুরে গান শেষ হল,—“আজ চিতোরের অন্তঃপুরে সে ফুল বিরাজে, কবি যার নাম গায় ভারতে, তার দোসর কোথা? জগতে তার জুড়ি