নূতন দিনে নূতন প্রদীপে সূর্য্যদেবের আরতি হবে।” সেই দিন ঠিক দ্বিপ্রহরে সূর্য্যের আলোয় যখন সমস্ত পৃথিবী আলোময় হয়ে গেছে, সেই সময় ব্রাহ্মণ সুভাগাকে সূর্য্যমন্ত্র শিক্ষা দিলেন;— যে মন্ত্রের গুণে সূর্য্যদেব স্বয়ং এসে ভক্তকে দর্শন দেন, যে মন্ত্র জীবনে একবার ছাড়া দুইবার উচ্চারণে নিশ্চয় মৃত্যু। তারপর সন্ধিক্ষণে, সন্ধ্যার অন্ধকারে, আরতিশেষে, নিভন্ত প্রদীপের মত ব্রাহ্মণের জীবনপ্রদীপ ধীরে ধীরে নিভে গেল;— সূর্য্যদেব সমস্ত পৃথিবী অন্ধকার করে অস্ত গেলেন। সুভাগা একলা পড়লেন।
প্রথম দিনকতক সুভাগা বৃদ্ধের জন্য কেঁদে কেঁদে কাটালেন। তারপর দিনকতক নিজের হাতে জঙ্গল পরিষ্কার করে মন্দিরের চারিদিকে ফলের গাছ, ফুলের গাছ লাগাতে কেটে গেল। আরও কতকদিন মন্দিরের পাথরের দেওয়াল মেজে ঘসে পরিষ্কার করে তার গায়ে লতা, পাতা, ফুল, পাখী, হাতী, ঘোড়া, পুরাণ, ইতিহাসের পট লিখতে চলে গেল। শেষে সুভাগার হাতে আর কোনো কাজ রইল না। তখন তিনি সেই ফলের বাগানে, ফুলের মালঞ্চে একাএকাই ঘুরে বেড়াতেন। ক্রমে যখন সেই নূতন বাগানে দুটি একটি