চমকে উঠে রাণার হাত ধরে নেবে গেলেন। সমস্ত রাত ধরে তাঁর মন বলতে লাগল,—একি অলক্ষণ! একি অলক্ষণ!
তার পর দিন পূবের আকাশে ভোরের আলো সবেমাত্র দেখা দিয়েছে এমন সময় একজন রাজপুত সওয়ার পাঠানশিবিরে উপস্থিত হল। বাদশা আল্লাউদ্দীন তখন রূপোর কুর্সিতে বসে তশবী-দানা জপ করছিলেন; খবর হল,—“রাণা লক্ষ্মণসিংহের দূত হাজির।” বাদশা হুকুম দিলেন,—“হাজির হোনেকো কহো।” রাণার দূত তিনবার কুর্ণিশ করে বাদশাহের সামনে দাঁড়িয়ে বল্লে,—“রাণা জানতে চান বাদশাহের সঙ্গে তাঁর কিসের বিবাদ যে, আজ এত সৈন্য নিয়ে তিনি চিতোরে উপস্থিত হলেন?” আলাউদ্দীন উত্তর করলেন,—“রাণার সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা নেই, আমি রাণার খুড়ো ভীমসিংহের কাছে পদ্মিনীকে ভিক্ষা চাইতে এসেছি, তাঁকে পেলেই দেশে ফিরব।” দূত উত্তর কল্লে,—“শাহেনশা, আপনি রাজপুত জাতকে চেনেন না সেই জন্য এমন কথা বলছেন। রাণার কথা ছেড়ে দিন, আমরা দুঃখী রাজপুত আমরাও প্রাণ দিতে পারি, তবু মান খোয়াতে পারি না। আপনি রাণীর