বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/৯৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পদ্মিনী
৮৫

আশা পরিত্যাগ করুন, বরং শাহেনশার যদি অন্য কিছু নেবার ইচ্ছে থাকে তবে—”। আল্লাউদ্দীন দূতের কথায় বাধা দিয়ে বল্লেন,—“হিন্দুস্থানের বাদশার এক কথা,—হয় পদ্মিনী, নয় যুদ্ধ।” রাণার দূত পিছু হটে তিনবার কুর্ণিশ করে বিদায় হল।

 সেইদিন সন্ধ্যাবেলা চিতোরের রাজসভায় সমস্ত রাজপুত-সর্দ্দার একত্র হলেন। কি করে চিতোরকে মুসলমানের হাত থেকে রক্ষা করা যায়?—রাজস্থানের রাজ-মুকুটের সমান চিতোর; রাজপুতের প্রাণের চেয়ে প্রিয় চিতোর! মুসলমানেরা প্রায় ভারতবর্ষ গ্রাস করেছে, তাদের সঙ্গে যুদ্ধে কত বড় বড় হিন্দু-রাজার রাজত্ব ছারখার হয়ে একেবারে লোপ পেয়ে গেছে, কিন্তু চিতোরের সিংহাসন সেই পুরাকালের মত এখনও অটল, এখনও স্বাধীন আছে! কি করে আজ এই ঘোর বিপদে চিতোরকে উদ্ধার করা যায়। অনেকক্ষণ ধরে অনেক পরামর্শ, তর্ক বিতর্ক চল্লো। শেষে রাণা ভীমসিংহ উঠে বল্লেন,—“পদ্মিনীর জন্যে যখন চিতোরের এই সর্ব্বনাশ উপস্থিত, তখন না হয় পদ্মিনীকেই পাঠানের হাতে দেওয়া যাক, আমার তাতে কোনো দুঃখ নেই; চিতোর আগে না পদ্মিনী আগে!”