বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/৯৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮৬
রাজকাহিনী

কথাটা বলে ভীমসিংহ একবার রাজসভার একপারে যেখানে শ্বেতপাথরের জালির পিছনে চিতোরের রাণীরা বসেছিলেন, সেই দিকে চেয়ে দেখলেন; তারপর সিংহাসনের দিকে ফিরে বল্লেন,—“মহারাণা কি বলেন?” লক্ষ্মণসিংহ বল্লেন,—“যদি সমস্ত সর্দ্দারের তাই মত হয় তবে তাই করা কর্ত্তব্য।” তখন সেই রাজভক্ত রাজপুত-সর্দ্দারের প্রধান, রাজসভায় উঠে দাঁড়িয়ে বল্লেন,—“রাণার বিপদে আমাদের বিপদ, রাণার অপমানে আমাদের অপমান! পদ্মিনী শুধু ভীমসিংহের নয় তিনি আমাদের রাণী বটে। কেমন করে আমরা তাঁকে পাঠানের বেগম হতে পাঠিয়ে দেব? পৃথিবীসুদ্ধ লোকে বলবে, রাজস্থানে এমন পুরুষ ছিল না যে, তার রাণীর হয়ে লড়ে। মহারাণা, আমরা প্রস্তুত, হুকুম হলেই যুদ্ধে যাই!” মহারাণা হুকুম দিলেন— “আপাততঃ যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, সাবধানে কেল্লার দরজা বন্ধ রাখ, আল্লাউদ্দীন যতদিন পারে চিতোর ঘিরে বসে থাকুক!” সভাস্থলে ধন্য ধন্য পড়ে গেল, চারিদিকে চিতোরের সমস্ত সামন্তসর্দ্দার তলোয়ার খুলে দাঁড়ালেন, সমস্ত রাজসভা এক সঙ্গে বলে উঠল,—“জয় মহারাণার জয়, জয় ভীমসিংহের জয়, জয়