বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/৯৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পদ্মিনী
৮৯

আল্লাউদ্দীন;—এক হাতে ঘোড়ার লাগাম আর হাতে সোনার জিঞ্জীর-বাঁধা প্রকাণ্ড একটা শিক্‌রে পাখী। বাদশা ভাবতে ভাবতে চলেছেন, এতদিন হয়ে গেল তবু তো চিতোর দখল হল না। সৈন্যেরা দিল্লী ফেরবার জন্য ব্যস্ত, আর কত দিন তাদের ভুলিয়ে রাখা যায়? যে পদ্মিনীর জন্য এত সৈন্য নিয়ে এত কষ্ট সয়ে বিদেশে এলেম, সে পদ্মিনীকে তো একবার চক্ষেও দেখতে পেলেম না। বাদশা একবার বাঁ হাতের উপর প্রকাণ্ড শিক্‌রে পাখীটার দিকে চেয়ে দেখলেন। হয়তো তাঁর মনে হচ্ছিল,—কোন রকমে দুখানা ডানা পাই, তবে এই বাজটার মত চিতোরের মাঝখান থেকে পদ্মিনীকে ছোঁ-মেরে নিয়ে আসি। হঠাৎ সন্ধ্যার অন্ধকারে দুখানি ডানার একটুখানি ঝটাপট সেই ঘুমন্ত শিক্‌রে পাখীর কানে পৌঁছল, সে ডানা ঝেড়ে ঘাড় ফুলিয়ে বাদশার হাতে সোজা হয়ে বসল; আল্লাউদ্দীন বুঝলেন, তাঁর শিকারী বাজ নিশ্চয়ই কোনো শিকারের সন্ধান পেয়েছে। তিনি আকাশে চেয়ে দেখলেন, মাথার উপর দিয়ে দুখানি পান্নার টুকরোর মত এক-জোড়া শুক-শারী উড়ে চলেছে। বাদশা ঘোড়া থামিয়ে বাজের পা থেকে সোনার