পাতা:রাজমোহনের স্ত্রী.djvu/২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রাজমোহনের স্ত্রী ) ご লোকের ভোগে আসিবে যাহাদিগকে তিনি চেনেন না বলিলেই চলে । পত্নীর জীবিতকাল পর্য্যন্তও না হয় সম্পত্তি তাহার হাতছাড়া হইতে পারিবে না, কিন্তু আইন তাহাকে স্বামীর সম্পত্তি হইতে সামান্য ভরণপোষণের উপযোগী একটা ভাতা ছাড়া আর কিছুই লইতে দিবে না । তাহার অবর্তমানে তাহার যুবতী পত্নী যাহাতে সম্পত্তির পূরা মালিক হইতে পারে বৃদ্ধ সে বিষয়ে অবহিত হইলেন ; যুবতী পত্নীর পরামর্শ ও যুক্তি র্তাহাকে চালিত করিতে লাগিল। এ বিষয়ে নিজের মনোহর ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে এই যুবতীর অতি পরিষ্কার ধারণা ছিল বলিয়া সে স্বামীকে দিয়া ভবিষ্যতের পথ নিষ্কণ্টক করিতে লাগিল । সমস্ত স্থাবর সম্পত্তিকে অস্থাবর করিবার দিকে বৃদ্ধ ঝোক দিলেন। জমিদারিকে যতটা পারেন নগদ টাকা ও অস্থাবর সম্পত্তিতে তিনি রূপান্তরিত করিতে লাগিলেন । নগদ টাকা সম্বন্ধে তাহার এই লোভ এমনই বুদ্ধি পাইয়াছিল যে, তিনি ঘেদিন মৃত্যুমুখে পতিত হইলেন তাহার উত্তরাধিকারিণী সেদিন যে বিপুল ধন-সম্পত্তির মালিক হইয়া বসিল- স্থাবর জোত জমা তাহার অতি সামান্ত অংশ মাত্র । করুণাময়ী যে বুদ্ধিমতী, সে বিষয়ে আমাদিগকে সন্দেহ করিবার অবকাশ মাত্র না দিবার জন্য স্থির করিল, রূপ এবং রূপ নামক যে দুইটি পদার্থের সে অধিকারিণী সেই দুইটিরই সদগতি করিতে হইবে । সে নিজেকে বুঝাইল, ঈশ্বরের অবতার রামচন্দ্র সীতাবিরহে কাতর হইয়া প্রিয়তমা পত্নীর প্রতি গভীর প্রেমের নিদর্শনস্বরূপ স্বর্ণ-সীতা নিৰ্ম্মাণ করাইয়া নিজেকে সাস্তুন দিতে চাহিয়াছিলেন । মৃত স্বামীর প্রতি তাহার প্রভূত ভালবাসা এই প্রকারের প্রতিনিধি-পদ্ধতির সাহায্যেই বা সার্থক হইবে না কেন ? সে আরও ভাবিল যে, যে প্রিয় চলিয়া গিয়াছে, যাহাকে সে হারাইয়াছে এবং যাহার বিরহে সে শোকাৰ্ত্ত, সামান্য ধাতুমূৰ্ত্তিকে তাহার প্রতিনিধি না করিয়া যদি একজন রক্তে-মাংসে গড়