অবতরণিকা আবার অন্তর্দৃষ্টি শক্তি আছে, এই শক্তিবলে, মানুষ নিজ অন্তরের গভীরতম প্রদেশে দৃষ্টি করিতে পারে। অন্তর্দৃষ্টিশক্তির বিকাশসাধন করাই যোগীর উদ্বেগু ; মনের সমুদয় শক্তিকে একত্র করিয়া ও ভিতরের দিকে ফিরাইয়া, ভিতরে কি হইতেছে, তাহাই তিনি জানিতে চাহেন। ইহাতে বিশ্বাসের কোন কথা নাই ইহা কতকগুলি দার্শনিকের মনস্তত্ত্ববিশ্লেষণের ফলমাত্র। আধুনিক শীরতত্ত্ববিৎ পণ্ডিতেরা বলেন, চক্ষু প্রকৃতপক্ষে দর্শনের করণ নহে, ঐ করুণ মস্তিষ্কের অন্তর্গত স্নায়ু-কেন্দ্রে অবস্থিত। সমুদয় ইন্দ্রিয়সম্বন্ধেই এইরূপ বুঝিতে হইবে। তাহারা আরও বলেন-মস্তিষ্ক যে পদার্থে নিৰ্ম্মিত, এই কেন্দ্রগুলিও ঠিক সেই পদার্থে নিৰ্ম্মিত। সাংখ্যেরাও এইরূপ বলিয়া থাকেন ; তবে প্রভেদ এই যে— সাংখ্যের সিদ্ধান্ত আধ্যাত্মিক দিক্ দিয়া ও বৈজ্ঞানিকের ভৌতিক দিক্ দিয়া । তাহা হইলেও, উভয়ই এক কথা। আমাদিগকে ইহার অতীত রাজ্যের অন্বেষণ করিতে হইবে। - যোগীর চেষ্টা, নিজেকে এমন স্বল্পাকুন্ডুতিসম্পন্ন করা যে, যাহাতে তিনি বিভিন্ন মানসিক অবস্থাগুলিকে প্রত্যক্ষ করিতে পারেন। মানসিক প্রক্রিয়া সমুদয়ের_পৃথক পৃথক ভাবে মানস' প্রত্যক্ষ আবগুৰু বিসমূহ, গোলকদিকে আঘাত করিবামাত্র তত্ত্বৎপন্ন বেদন কিরূপে তত্ত্বৎ করণসহায়ে স্নায়ুমার্গে ভ্রমণ করে, মন কিরূপে উহাদিগকে গ্রহণ করে, কি করিয়া উহারা আবার নিশ্চয়াত্মিক বুদ্ধিতে গমন করে, পরিশেষে, কি করিরাই বা পুরুষের নিকট যায়– এই সমুদয় ব্যাপারগুলিকে পৃথক পৃথক্ ভাবে প্রত্যক্ষ করিতে হইবে। সকল বিষয় শিক্ষারই কতকগুলি নির্দিষ্ট প্রণালী >>
পাতা:রাজযোগ.djvu/৩৩
অবয়ব